ছোটদের আবৃত্তি যোগ্য ছড়ার বই আগডুম বাগডুম

অনুপ কুমার বর্ধন খবর ২৪ কোলকাতা :  বই পড়ার আগ্রহ বড়দের তুলনায় ছোটদের নেহাৎ কম নয়, আসলে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় শৈশব বা কৈশোর থেকেই। আর তাই বিশ্ব জুড়েই বইয়ের বাজারে ছোটদের অংশীদারিত্ব অনেকটাই। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০১৯ এ সেই সমস্ত ক্ষুদে পাঠকদের দিকে তাকিয়েই বিভিন্ন প্রকাশনা শিশু ও কিশোর উপযোগী বইয়ের সম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছিল। সেই সম্ভারে ছিলো গল্প, ছড়া, কমিকস, সাধারণ জ্ঞান বা আরও অনেক বিষয়ের বই। নানারকম বইয়ের ভীড়ে নজর কেড়েছে আগডুম বাগডুম। কবি ও ছড়াকার অঞ্জন ভট্টাচার্য ছোটদের জন্য এই ছড়ার বইটিতে যেমন রেখেছেন হাসি-মজা, আবার পাশাপাশি তুলে ধরেছেন শিশুদের অভিমান বা না বলতে পারা কথা। এই বইতে আছে ভালো ভূত,মন্দ ভূত। আবার আছে সমাজের অদ্ভুত নানাদিক, যা কখনও শিশু-কিশোর মনকে আঘাত করে বা প্রভাবিত করে। এই বইটির কয়েকটি ছড়া সম্পর্কে না বললে কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, দুষ্টু মানেই যে খারাপ তা যে ভুল ভাবনা, চঞ্চলতা ভরা শিশু মনের মধ্যে থাকে ভবিষ্যতের মহামানবের বীজ, আর সেই বার্তা কবি দিয়েছেন ” দুষ্টু ছেলে ” ছড়াটির মধ্যে। বাবা মায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে শিশু কিশোরদের উপর কতটা চাপ পড়ে তা প্রকাশ পেয়েছে “গড়া” ছড়াটিতে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ছোট ছোট শিশুদের পিঠে পাহাড় প্রমাণ বইয়ের বোঝা যে কতটা কষ্টকর তা ফুটে উঠেছে “চাপ” ” ইচ্ছে করে” “রোজনামচা” ও “যদির যাদু” ছড়া গুলিতে। সামাজিক শিক্ষা ও সমাজের ক্ষতিকারক দিক গুলিও কবি তুলে ধরেছেন ” জব্দ, কীর্তন কেলেঙ্কারি, ঘোড়ার ডিম, স্মার্টফোন, নেটিভ বাঙালি, রসাতল, মিড ডে অমিল” ছড়া গুলির মধ্যে দিয়ে। ছড়ায় ছড়ায় যেমন “শাকচুন্নির বিয়ে” হয়েছে, তেমন “ভূতেদের ফিস্টি” ও হয়েছে। মানুষের সমাজেও যে মামদোরা বিরাজ করে তা ব্যাঙ্গাত্মক ভাবে ফুটে উঠেছে “মামদোবাজি” ও “মামদোর ইতিকথা” ছড়ায়। বইটির শেষ ছড়া “আগডুম বাগডুম” এর নামেই ছড়ার বইটির নামকরণ, এই ছড়াটির মধ্যে দিয়ে কবি বড়দের বার্তা দিতে চেয়েছেন যে জীবনে বাঁচার আনন্দ উপভোগ যদি করতে হয় তবে মনটাকে শিশুর মতই সহজ সরল রাখতে হবে। আগডুম বাগডুম পড়তে পড়তে বারবার মনে পড়েছে কবি সুকুমার রায়ের কথা, আবোল তাবোল যেমন শুধু আবোল তাবোল নয়, ঠিক তেমনই আগডুম বাগডুম শুধু আগডুম বাগডুম নয়। এই বইয়ের প্রতিটি ছড়ায় রয়েছে সমাজের প্রতি বার্তা, যা শিশু শিক্ষার পাশাপাশি অভিভাবকদের মনকেও নাড়া দেবে। আশা করা যায় আগডুম বাগডুম ও তার স্রষ্টা অঞ্জন ভট্টাচার্য শিশু-কিশোর মনে পাকাপাকি ভাবে স্থান করে নেবে।